
৪৪তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে ৪৪তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত দাবি করে ফেসবুকে একাধিক পোস্ট দিলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নিজেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বৃন্দাবন সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। বিষয়টি ভাইরাল হওয়ার পর কলেজ পর্যায় থেকেও তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রথমদিকে সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন মহলে বিষয়টি নিয়ে প্রশংসা ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি হলেও পরবর্তীতে দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিসিএস পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডে অন্য একজন পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর ডিজিটালি এডিট করে ব্যবহার করেছেন। সংশ্লিষ্ট রোল নম্বরের প্রকৃত পরীক্ষার্থী বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একজন শিক্ষার্থী—এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এছাড়া ৪৪তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্তদের গোপন (সিক্রেট) অনলাইন গ্রুপে অভিযুক্ত ব্যক্তির কোনো অস্তিত্ব নেই বলে নিশ্চিত করেছেন ওই ক্যাডারের একাধিক সদস্য।
সত্যতা যাচাইয়ের জন্য যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রশ্নকারীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্লক করে দেন, যা অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সচেতন মহল মনে করছে, প্রতিটি বিসিএস পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরই এমন কিছু প্রতারক সক্রিয় হয়ে ওঠে, যারা মানুষের আবেগ ও বিশ্বাসকে পুঁজি করে ভুয়া পরিচয়ে আত্মপ্রচার চালায়। এ ধরনের প্রতারণা প্রতিরোধে সবাইকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।