
সম্প্রতি, কন্যাসন্তানের মা হয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি লেখেছেন, 'মে মাসের প্রথম দিন আমাদের পরিবারে নতুন অতিথি 'ভিভিয়ান' এসেছে। সে একদম সুস্থ আছে। তার বড় ভাই ছোট বোনের সঙ্গে বেশ ভালো সময় কাটাচ্ছে। জীবনের এই পরিবর্তনের সঙ্গে সে আনন্দচিত্তে মানিয়ে নিচ্ছে। আমরা এই আনন্দময় মুহূর্তগুলো উপভোগ করছি।'
লেভিটের এমন খুশির সংবাদের পোস্টটি শেয়ার করে দ্বিতীয় সন্তানের মা হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে ইরান।
পোস্টটি এক্সে শেয়ার করে আর্মেনিয়ায় নিযুক্ত ইরানি দূতাবাস এক্সে লিখেছে, ‘অভিনন্দন লেভিট! শিশুরা নিষ্পাপ-ভালোবাসার যোগ্য। মিনাবের সেই স্কুলে আপনার বস যে ১৬৮ শিশুকে হত্যা করেছিলেন, আপনি ন্যায্য বলে সমর্থন করেছিলেন, তারাও শিশু ছিল। যখন আপনি নিজের শিশুকে চুমু দেবেন, তখন সেই শিশুদের মায়েদের কথাও ভাববেন।'
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, টার্গেট 'প্রি-ডিসাইডেড' হলেও ভুল করে বসে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো হামলা আঘাত হানে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের মিনাব শহরের একটি স্কুলে। ভয়াবহ এই হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হয় 'যুক্তরাষ্ট্র-ইরান-ইসরায়েল' যুদ্ধ।
এই নির্মম হামলার পর সিএনএন, নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলোতে মার্কিন বাহিনীর 'ভুল' হামলা এবং পর্যাপ্ত 'হোম-ওয়ার্ক' না করার অভিযোগ ওঠে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে। হামলার দায় স্বীকার না করে 'তদন্ত চলছে' এবং 'প্রতিবেদন প্রকাশ' করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
মিনাব শহরের শাজারাহ তাইয়েবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনে হামলাটি ছিল মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি নিশানাগত (টার্গেটিং) ভুল বলে দাবি করেছিলো নিউ ইয়র্ক টাইমস।
হামলার দিন, বিদ্যালয় ভবনের পাশেই অবস্থিত একটি ইরানি ঘাঁটিতে অ্যাটাকের প্ল্যান ছিলো মার্কিন বাহিনীর। বিদ্যালয় ভবনটি আগে ওই ঘাঁটিরই অংশ ছিল। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের এক ভুলে স্কুলে অবস্থানরত ১৬৮ শিক্ষার্থী, স্কুলের শিক্ষক এবং স্টাফ নিহত হয়।
প্রাথমিকভাবে, হামলার দায় স্বীকার না করলেও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কর্মকর্তারা জানান, ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির দেওয়া 'পুরোনো তথ্য' ব্যবহার করে হামলার স্থান নির্ধারণ করেছিলেন।
শিশুদের দিয়ে পরিপূর্ণ একটি স্কুলে হামলার এই ঘটনা নিশ্চিতভাবে সাম্প্রতিক কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ 'সামরিক ভুল' হিসেবে নথিবদ্ধ হয়েছে এমনটা দাবি করেছিলো সিএনএনসহ বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী গণমাধ্যম। তবে, প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিবেদনের অগ্রগতি নিয়ে পেন্টাগন কি বলছে?
ওই হামলার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও পেন্টাগনের পক্ষ থেকে শুধু বলা হয়েছে, ঘটনাটি 'তদন্তাধীন'। তদন্ত শেষ হলে আরও তথ্য জানানো হবে।
মার্চের শুরুতে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো দাবি করে, প্রাথমিক তদন্ত এবং তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণকরে ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন বাহিনী 'অনিচ্ছাকৃতভাবে' স্কুলটিতে হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। তবে এখনো 'চূড়ান্ত' সিদ্ধান্ত হয়নি।