নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিলেট বিভাগ — প্রকৃতির অপার দান। গ্যাস, চা, পাথর, বালু ও পর্যটন সম্পদে ভরপুর এ অঞ্চল। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, এই অঞ্চলের মানুষ তাদের প্রাপ্য উন্নয়ন ও অধিকার থেকে বঞ্চিত।
বাংলাদেশের মোট গ্যাসের একটি বড় অংশ উত্তোলন হয় সিলেট বিভাগ থেকে। জালালাবাদ, বিয়ানীবাজার, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও বিশ্বনাথ গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন উত্তোলিত গ্যাস সরবরাহ করা হয় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয় হলো, এখনো সিলেট বিভাগের অনেক গ্রাম-উপজেলায় গ্যাস সংযোগের অভাব রয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশের ৯৫% চা উৎপাদিত হয় সিলেট বিভাগের শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার, চুনারুঘাট ও জুড়ী এলাকায়। কোটি কোটি টাকার চা রপ্তানি হলেও চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন হয়নি। আধুনিক আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা ব্যবস্থা এখনো স্বপ্নের মতো।
পাথর ও বালু উত্তোলনেও সিলেটের অবদান অনন্য। ভোলাগঞ্জ, জাফলং, কোম্পানীগঞ্জ, তামাবিল থেকে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার পাথর উত্তোলন করা হয়। দেশের বড় বড় নির্মাণ প্রকল্পে ব্যবহৃত হয় এই পাথর। কিন্তু এই এলাকার রাস্তাঘাট, ব্রিজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল — কোথাও উন্নয়নের ছোঁয়া তেমনভাবে পৌঁছেনি।
পর্যটন খাতেও পিছিয়ে নেই সিলেট। দেশের সেরা পর্যটন স্পট যেমন জাফলং, বিছানাকান্দি, রাতারগুল, লাউয়াছড়া এখানে। দেশের হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসেন প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে। অথচ পর্যটন অবকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরণের উন্নয়ন দেখা যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘সিলেট বিভাগ থেকে জাতীয় রাজস্বের একটি বড় অংশ সংগ্রহ করা হলেও, এই অঞ্চলের জন্য উন্নয়ন বরাদ্দ বরাবরই কম।’
সাধারণ মানুষ বলছেন, ‘আমরা শুধু দেশের সম্পদ দিয়ে যাব, অথচ নিজেদের উন্নয়ন হবে না — এটা হতে পারে না।’
এখনই সময় সিলেটের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার। চাই উন্নত অবকাঠামো, গ্যাসভিত্তিক শিল্পাঞ্চল, আধুনিক হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্বমানের পর্যটন সুবিধা।
সবার দাবির প্রতিধ্বনি হোক — সিলেটের সম্পদ, সিলেটবাসীর অধিকার।
মোহাম্মদ মোশাহিদ মজুমদার
(প্রতিষ্ঠাতা- পরিচালক) - উদ্ভাবনী বিজ্ঞান ক্লাব
দৈনিক দুর্বার