ইসরায়েল ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। এই হামলার ফলে লাখো মানুষ গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আজ ইরান ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র দক্ষিণ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ দুইটি গ্যাস স্থাপনায়—সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের ফেজ ১৪ এবং ফজর জাম গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ কমপ্লেক্সে আঘাত হেনেছে। একইসঙ্গে রাজধানী তেহরানে অবস্থিত তিনটি প্রধান জ্বালানি মজুদ কেন্দ্র—শাহরান, কান ও রেই ডিপোতেও হামলা হয়েছে।
সাউথ পার্স ইরানের মোট প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের প্রায় ৭৫% সরবরাহ করে থাকে। শুধু ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় প্রায় ১০% গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
ফজর জাম কমপ্লেক্স, যা প্রতিদিন ৫০ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম, গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া, ফেজ ১৪ ইউনিটের ৬০% উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে, যা দৈনিক ২০ মিলিয়ন ঘনমিটার উৎপাদন করে।
তেহরানে জ্বালানি মজুদ কেন্দ্র ধ্বংস
তেহরানে ইসরায়েলের হামলায় যে তিনটি ফুয়েল ডিপো ধ্বংস হয়েছে, সেগুলো রাজধানীর প্রায় সকল পেট্রোল ও ডিজেল সরবরাহ করে। তেহরানের মোট জ্বালানি মজুদ ক্ষমতা ১ বিলিয়ন লিটার, যা ইরানের জাতীয় মজুদের এক চতুর্থাংশ।
একটি গোপন নথি অনুযায়ী, মার্চ মাসের শেষে ইরানের মজুদের পরিমাণ ছিল ১.৫৬ বিলিয়ন লিটার গ্যাসোলিন ও ১.২৮ বিলিয়ন লিটার ডিজেল—যা দেশব্যাপী মাত্র ১০ দিনের চাহিদা পূরণের মতো।
শুধু তেহরানেই প্রতিদিন ২০ মিলিয়ন লিটার গ্যাসোলিন ও ৭.৫ মিলিয়ন লিটার ডিজেল ব্যবহার হয়। ফলে রাজধানীতে শিগগিরই মারাত্মক জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি
দক্ষিণ ইরানে জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুদ্ধ যদি পারস্য উপসাগরে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তা পুরো বিশ্বকে সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে।
ইরানি পার্লামেন্ট সদস্য এস্মাইল কোসারি বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধের কথা বিবেচনা করছে। অথচ দেশটির রপ্তানিকৃত প্রায় সব তেলই এই প্রণালীর মধ্য দিয়ে যায়।
তথ্য অনুযায়ী, ইরান এই মাসের প্রথম ১০ দিনে প্রতিদিন ২.২ মিলিয়ন ব্যারেল ও গত মাসে গড়ে ১.৮ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে—সবই হরমুজ প্রণালী হয়ে।
ইরানের একমাত্র বিকল্প রুট হচ্ছে জাস্ক টার্মিনাল, যা ২০২০ সালে চালু হয়। তবে সেটির সক্ষমতা সীমিত এবং বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে শুধু তেল রপ্তানি নয়, ইরানের ৮০% অ-তেল বাণিজ্যও বন্ধ হয়ে যাবে। দেশটির পারস্য উপসাগরীয় বন্দরগুলোর মাধ্যমে এই বাণিজ্য পরিচালিত হয়। বিকল্প চাবাহার বন্দরের মাধ্যমে মাত্র ৪% পণ্য পরিবহন সম্ভব।
এ পর্যন্ত ইরানের হামলায় কমপক্ষে ১৪ জন ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল
নিউজটি আপডেট করেছেন : আল-আমিন সাঈফী