নরসিংদীর পলাশ থানার রাজনীতিতে ফের রক্তাক্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ২২ ও ২৩ জুন তারিখে ছাত্রদল ও বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন ২৬ বছর বয়সী ছাত্রদল কর্মী ইসমাইল হোসেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।
নিহত ইসমাইল হোসেনের জানাজা সম্পন্ন হয় পলাশ বাসস্ট্যান্ডে। সেখানে জেলা বিএনপি, ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা অভিযোগ করেন, "এই সহিংসতা পূর্বপরিকল্পিত এবং সরকার-সমর্থিত একটি মহল এই ঘটনার পেছনে জড়িত।"
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে পলাশ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে বিএনপি নেতা ফজলুল কবির জুয়েলসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, নরসিংদী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, “ছাত্র রাজনীতিকে ধ্বংস করতে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। গণতন্ত্র রক্ষায় এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ সহচর ও বর্তমানে গজারিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আসলাম হোসেন বাবু। তিনি বলেন, “ইসমাইল আমাদের আন্দোলনের সাহস ছিল। তার রক্ত কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। যারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তাদের দ্রুত বিচার চাই। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে রাজনীতি করছি, কিন্তু একের পর এক হত্যাকাণ্ড আমাদের হতাশ করছে।”
আসলাম হোসেন বাবু এর আগে গজারিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি গজারিয়া ইউনিয়ন যুবদলের একজন সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই হত্যাকাণ্ড নরসিংদীর রাজনীতিতে গভীর উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। পলাশ থানায় বর্তমানে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত ও ন্যায়বিচার আদায়ে পরিবারের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতারাও সোচ্চার হয়েছেন।