সময়টা একেবারেই ভালো যাচ্ছিল না তাওহীদ হৃদয়ের। এশিয়া কাপে আগের ম্যাচগুলোয় রান পেলেও ব্যাটে ছিল ছন্দহীনতা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নামার আগেই ছেড়ে দিয়েছিলেন ক্যাচ—ভিলেন হওয়ার সব আয়োজন যেন তার চারপাশেই ছিল। তবে খাদের কিনারে পৌঁছে আহত বাঘের মতোই জ্বলে উঠলেন এই ব্যাটার।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৬৮ রান তুলেছিল লঙ্কানরা।
জবাবে বাংলাদেশ ১ বল হাতে রেখেই পৌঁছে যায় জয়ের বন্দরে। ওপেনার সাইফ হাসান খেলেছেন ঝড়ো ইনিংস—৪৫ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় ৬১ রান, যা তাকে ম্যাচসেরার স্বীকৃতি এনে দেয়। তবে দলের জয় নিশ্চিত করার মূল ভিত গড়েছেন তাওহীদ হৃদয়। ৩৭ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় তার ৫৮ রানের ইনিংস সমালোচনার জবাব দিয়েছে দারুণভাবে।
হৃদয়ের বিদায়ের সময়ও টাইগারদের দরকার ছিল ৯ বলে ১০ রান। সেখান থেকে দলকে রুদ্ধশ্বাস জয় এনে দেন নাসুম আহমেদরা।
তার ইনিংসে মুগ্ধ হয়েছেন ভারতের বিখ্যাত ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে। ম্যাচ শেষে এক্সে লিখেছেন—
"তাওহীদ হৃদয় কতটা ভালো সে ব্যাপারে অনেক শুনেছি এবং মাঝেমাঝে তার ছটাও দেখেছি। কিন্তু আজ সে তার ক্লাস দেখালো। শীর্ষ পর্যায়ের ইনিংস।"
একই সঙ্গে শ্রীলঙ্কার স্পিন আক্রমণ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি। বলেছেন, "দীর্ঘদিন পর আমি এমন একটা শ্রীলঙ্কান দল দেখলাম যাদের স্পিন বোলিংয়ে এতোটা সীমিত বিকল্প।"
শ্রীলঙ্কার হয়ে হাসারাঙ্গা ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে ২ উইকেট নিলেও ভাল্লালাগে ৪ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। আর পার্টটাইমার কামিন্দু মেন্ডিস এক ওভারেই দিয়েছেন ১৬ রান।
এশিয়া কাপ সুপার ফোরের শুরুটা তাই হয়েছে বাংলাদেশের জন্য দুর্দান্তভাবে।
দৈনিক দুর্বার