আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, জামায়াতে ইসলামী গোপনে গোপনে আওয়ামী লীগের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করছে। গত ৫ আগস্টের আগে যারা ছাত্রলীগ করতো তারা এখন বলে তারা শিবির করে। জামায়াত বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের লোকজনকে ভাগায়ে নিচ্ছে। সুতরাং এই কাজগুলো করে জামায়াতে ইসলামী বিএনপির সাথে যে দূরত্ব তৈরি করল, এই জিনিসটা জামায়াতের কপালে ভালো কিছু দেবে বলে আমার মনে হয় না।তিনি বলেন, রাজনীতি বড় কঠিন জিনিস, রাজনীতি খুব গভীরে যাওয়ার জিনিস। বাংলাদেশে যদি আওয়ামী লীগ আবার ফিরে আসে তাহলে এর জন্য জামায়াত দায়ী হবে। বাংলাদেশে আজকে নির্বাচন হলে জামায়াতে ইসলামী প্রধান বিরোধী দল হতো। এর চেয়ে বেশি আশা করা এই মুহূর্তে জামায়াতের জন্য ঠিক নয়। জামায়াত যদি মনে করে ইলেকশন করে কালকেই ক্ষমতায় চলে যাবে, তাহলে আমরা বলবো দিল্লি বহুদূর হে।
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, জামায়াতের উচিত এই মুহূর্তে কতটুকু লাভ তাদের পকেটে নেওয়া সম্ভব এটা ভাবা। সেটা হচ্ছে নির্বাচন হলে বিএনপি ক্ষমতায় যাবে, জামায়াত বিরোধী দল হবে।এর চেয়ে বেশি যদি জামায়াত কিছু চায়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে সংকট তৈরি হবে সেই সংকটের ফাঁকে যদি আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়, সে দায় জামায়াতকে নিতে হবে।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন অস্থির, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নেই। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকার কারণে প্রশাসনও এখন ঠিকমতো কাজ করে না। এই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা ছিল আজকের রাজনীতিবিদদের জন্য সবচেয়ে বড় কাজ। কিন্তু তারা সেটা বাদ দিয়ে কি এক জিনিস আনলো পিআর। এই পিআর কি আপনারা, আমরা বুঝি, বুঝি না। এখন এই মুহূর্তে কাজ হচ্ছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনা। এখন দেশটা ভয়ঙ্কর দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে।ভারতীয় ষড়যন্ত্র চলছে। আবার আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র করছে।
এই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য যিনি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবেন, আমি বলব তিনি দেশের জন্য একটা ক্ষতিকর কাজ করছেন। এজন্য আমি বলব জামায়াতে ইসলামী ভ্রান্ত রাজনীতি হাতে নিয়েছে, বিভ্রান্তির একটা রাজনীতির দিকে এগুচ্ছে তারা। আমার ধারণা এটাতে জামায়াতে ইসলামীর নিজেরও অনেক ক্ষতি হবে।
জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক আলহাজ্ব মাওলানা মো.আইয়ুব খান আনসারীর সভাপতিত্বে ও জেলা ওলামা দলের সদস্য সচিব হাফেজ মাওলানা মো.লোকমান হোসেন এবং ওলামা দলের সদস্য মাওলানা আনাস খানের সঞ্চালনায় এ সময় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবীব, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কেএ সবুর শাহীন,জেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক এ মজিদ বিশ্বাস, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খায়রুল আনাম বকুল, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নেকবর হোসেন মনিসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, জেলা ওলামাদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ওলামা দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পৌরসভার কমিউনিটি সেন্টার থেকে একটা বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের ১নং রেলগেট এলাকা প্রদক্ষিণ করে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়।