মিজান ক্বাদরি,হবিগঞ্জ
হবিগঞ্জ–৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনের সুন্নি জোট মনোনীত প্রার্থী মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরিকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একটি ধর্মীয় মাহফিলে দেওয়া তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে।
সম্প্রতি এক মাহফিলে ওয়াহাবী মতাদর্শ বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী আকিদাগত অবস্থান তুলে ধরেন। সেখানে আত্মীয়তা, নামাজ, জানাজা, বিবাহ, সালাম ও কবর জিয়ারত সংক্রান্ত বিষয়ে কঠোর মত প্রকাশের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ বক্তব্যকে ঘিরে এক শ্রেণির মানুষ বিভ্রান্তিতে পড়লেও তাহেরি হুজুরের সমর্থক ও ঘনিষ্ঠজনেরা বলছেন, এটি সম্পূর্ণই আকিদাগত ব্যাখ্যা, রাজনৈতিক অবস্থান নয়। এদিকে বিতর্কের মধ্যেই তাহেরি হুজুর বিভিন্ন শ্রেণি ও মতাদর্শের মানুষের কাছে ভোট চাইতে গেলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। তবে তাহেরি হুজুরের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, আকিদা ও রাজনীতি এক বিষয় নয়। তার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানায়, “আকিদা থাকবে দ্বীনের ক্ষেত্রে, আর রাজনীতি চলবে ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে। রাজনীতিতে সকল ধর্ম ও মতের মানুষের অধিকার সমান। সুখে-দুঃখে পাশে থাকা, নাগরিক সুবিধা দেওয়া এবং ভোটাধিকার নিশ্চিত করা ইসলামেরই শিক্ষা।” তাহেরি হুজুর মনে করেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় মতভেদ নয়, বরং ন্যায়, সততা ও জনসেবাই মুখ্য হওয়া উচিত। সে কারণে তিনি সকল শ্রেণির মানুষের কাছেই ভোট চাইছেন এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চান। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, তাহেরি হুজুরের বক্তব্যকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। তারা বলছেন, একজন আলেম হিসেবে আকিদাগত অবস্থান প্রকাশ করা তার অধিকার, আবার একজন রাজনৈতিক প্রার্থী হিসেবে সকল মানুষের জন্য ইনসাফভিত্তিক রাজনীতির কথা বলাও তার দায়িত্ব। এ বিষয়ে তাহেরি হুজুরের সমর্থকদের দাবি, ধর্মীয় আকিদাকে রাজনৈতিক অস্ত্র বানানো নয়, বরং ন্যায়ভিত্তিক নেতৃত্বই হওয়া উচিত মূল বিবেচ্য।
দৈনিক দুর্বার