ইরানের হামলার জন্য আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না সংযুক্ত আরব আমিরাত। ভূখণ্ড কিংবা জলসীমাতেও কোনো আগ্রাসী সামরিক পদক্ষেপের অনুমতি দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন নিউজ।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তেহরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে কাঠামোগত কোনো সহায়তা দেবে না আমিরাত। সংলাপ ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল দেশটি বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে। এর আগে, গেল বছর ইরানে হামলা চালাতে জর্ডানের আকাশসীমা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান উত্তেজনার মাঝেই ইরানের রাজধানী তেহরানের এঙ্গেলাব স্কয়ার নতুন একটি দেয়ালচিত্র (ম্যুরাল) উন্মোচন করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সতর্ক করে বলা হয়েছে—ইরানের ওপর যেন কোনো সামরিক হামলার চেষ্টা না করা হয়।
বিলবোর্ডের ছবিতে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও অচল যুদ্ধবিমান। দেয়ালচিত্রটিতে একটি বিমানবাহী রণতরীর ওপর ধ্বংসপ্রাপ্ত কয়েকটি যুদ্ধবিমানের ছবি আঁকা রয়েছে। এর সঙ্গে ইংরেজিতে লেখা আছে, ‘ইফ ইউ সোও দ্য উইন্ড, ইউ উইল রিপ দ্য ওয়ারলউইন্ড’। মানে ‘খারাপ কাজের বীজ বুনলে ফলস্বরূপ ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে’। এই দেয়ালচিত্রটি এমন সময় উন্মোচন করা হয়েছে, যখন ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী ওই অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) থেকে ফেরার পথে ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের বলেন,যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দিকে বিশাল নৌবহর পাঠাচ্ছে। আমি চাই না তেমন কিছু ঘটুক, তবে আমরা তাদের ওপর কড়া নজর রাখছি।
ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর বলেছেন, গণবিক্ষোভ দমননের পর আইআরজিসি এখনো ‘ট্রিগারে আঙুল রেখে’ প্রস্তুত রয়েছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে মোহাম্মদ পাকপুর বলেছেন, ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা ও গত বছর ১২ দিনের যুদ্ধ থেকে তারা যেন শিক্ষা নেয়। নাহলে তাদের আরো বেদনাদায়ক ও অনুশোচনামূলক পরিণতির মুখে পড়তে হবে।