ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সেই শিশুর বর্ণনায় উঠে এলো ভয়াবহ তথ্য

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 5, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন:
ad728


‘মসজিদের বারান্দায় দুইজনকে ডেকে কোলে নিয়ে বলতো- এটা আমার আম্মু, ওটা আমার বউ। হুজুর মাঝখানে বসতো আর আমাদের দুইপাশে বসাইতো। আর বলতো- এটা আমার আম্মু, ওটা আমার বউ। কাকে বউ বলছে ওটা ঠিক মনে নেই। আগে শুধু টাকা দিত, আদর করত, আম্মু আম্মু বলে ডাকত। গায়ে হাত দিয়ে বলতো এগুলো আদর। নিজের কোলে বসাইত তারপর বলতো এগুলো আদর। ওই মসজিদের বারান্দায় কোলে বসিয়ে রাখতো। টাকা দিয়ে বলতো- এগুলো দিয়ে মজা খেতে। আমি বলতাম লাগবে না, জোর করে দিত। কখনো ১০০ টাকা, ৫০ টাকা বা ২০ টাকা দিত। আর মাঝে মাঝে বলতো- কিছু লাগলে ওনার কাছে বলতে।’

এভাবেই বিকৃত যৌনাচারের বলি হওয়া শিশুটি তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানায় ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদকের কাছে। 

গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মদন থানায় মেয়েটির মা আমান উল্লাহ সাগরকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত শিক্ষক উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে। মামলা দায়ের করার ১১ দিন হলেও এখনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে মামলার দ্বিতীয় আসামি মাইমুন ওরফে মামুন মিয়া বর্তমানে আদালতে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে জামিনে রয়েছেন। তিনি সম্পর্কে আসামির আপন ভাই।

ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কখনো মসজিদের বারান্দায় কোলে বসিয়ে, কখনো মাদরাসার রুমে আটকে রেখে চলেছে এই নিষ্ঠুরতা। শিশুটি যখন চিৎকার করার চেষ্টা করেছে, তখন অভিযুক্ত ওই শিক্ষক তার মুখ চেপে ধরেছে। এমনকি মামার কাছে বিচার দেওয়ার কথা বলে ভয় দেখিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে এই নির্যাতন আড়াল করে রাখা হয়েছে। তবে এ ঘটনার শিকার শুধু এই একটি শিশুই নয়, তার সহপাঠী তানিয়াও (ছদ্মনাম) একইভাবে এই লালসার শিকার হয়েছে বলে শিশুটি জানায়। শিক্ষক যখন এমন ভক্ষক হয়ে দাঁড়ায়, তখন আমাদের শিশুদের নিরাপত্তা আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে? সেই প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : চুনারুঘাট প্রতিনিধি

কমেন্ট বক্স