ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সুতাং নদীকে বাঁচাতে রাজপথে নামছে ‘উদ্ভাবনী বিজ্ঞান ক্লাব’

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 5, 2026 ইং
উদ্ভাবনী বিজ্ঞান ক্লাব ছবির ক্যাপশন: উদ্ভাবনী বিজ্ঞান ক্লাব
ad728
নিজস্ব প্রতিবেদক, হবিগঞ্জ | ৫ মে, ২০২৬

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের প্রাণ হিসেবে পরিচিত সুতাং নদীকে শিল্পদূষণের কবল থেকে রক্ষা করতে এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উঠে আসা ভয়াবহ তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরতে এবার বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বিজ্ঞানমনস্ক তরুণদের সংগঠন ‘উদ্ভাবনী বিজ্ঞান ক্লাব’। সম্প্রতি হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় নদীর পানি ও মাছে আশঙ্কাজনক মাত্রায় বিষাক্ত ভারী ধাতু ও মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়ার প্রেক্ষিতে এই আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করতে গিয়ে ‘উদ্ভাবনী বিজ্ঞান ক্লাব’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ মোশাহিদ মজুমদার  এক বিশেষ বার্তায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,

"সুতাং নদী কেবল আমাদের একটি প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি আমাদের এই অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রধান ভিত্তি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, কিছু অসাধু শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে এই নদী আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। গবেষণায় পানিতে স্বাভাবিকের চেয়ে ২৪ গুণ বেশি সীসা এবং মাছের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে, যা সরাসরি মানুষের শরীরে বিষ ছড়াচ্ছে। আমরা আমাদের মাটিকে, আমাদের নদীকে এভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরতে দিতে পারি না।"

তিনি আরও যোগ করেন, "উদ্ভাবনী বিজ্ঞান ক্লাব সবসময় বিজ্ঞানের আলোয় সমাজ গড়ার কাজ করে। কিন্তু যখন আমাদের চারপাশের পরিবেশই হুমকির মুখে, তখন আমরা নীরব থাকতে পারি না। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন, তবে তা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে বিপন্ন করে নয়। আমরা অবিলম্বে শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে ২৪ ঘণ্টা ইটিপি (ETP) চালু রাখা এবং নদী দূষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চাই। অন্যথায় শায়েস্তাগঞ্জসহ পুরো জেলার সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো।"

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুতাং নদী রক্ষায় তারা ধাপে ধাপে কর্মসূচি পালন করবে। এর মধ্যে রয়েছে: ১.গবেষণালব্ধ তথ্যগুলো লিফলেট ও ইনফোগ্রাফিকের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো। ২.জেলা প্রশাসক এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে গবেষণার তথ্যসহ স্মারকলিপি প্রদান। ৩. স্থানীয়দের সমন্বয়ে শিল্পাঞ্চলের বর্জ্য নিঃসরণ পর্যবেক্ষণ করতে একটি নাগরিক নজরদারি টিম গঠন।

উল্লেখ্য যে, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের গবেষণায় দেখা গেছে, সুতাং নদীর পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে ২.৪৭ পিপিএম-এ নেমেছে। পানির বিষাক্ত সীসা ও ক্যাডমিয়াম সেচকাজের মাধ্যমে ধান ও সবজিতে মিশে পুরো দেশের খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারসহ প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুর শিল্পাঞ্চল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা এই আন্দোলনের ডাককে সাধুবাদ জানিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, নদীর পানি কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ায় তারা গৃহস্থালি কাজ তো দূরের কথা, নদীর পাড় দিয়ে চলাচলের ক্ষমতাও হারিয়েছেন। ‘উদ্ভাবনী বিজ্ঞান ক্লাব’-এর এই সময়োপযোগী উদ্যোগ সুতাং নদীকে ফিরে পাওয়ার নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : দৈনিক দুর্বার

কমেন্ট বক্স