অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদায়ী চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে এক বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
বৈঠকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে চীনের নিরবচ্ছিন্ন সহায়তার কথা স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের সূচনা করেছিলেন এবং পরবর্তীতে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই ধারাবাহিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে অবদান রাখেন।
স্পিকার বলেন, বিগত ১৫ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের পর সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সংসদীয় যোগাযোগ বাড়াতে 'বাংলাদেশ-চীন সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ' গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার জনগণের রায়ে নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকার।
বৈঠকে যেসব পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়:
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর প্রতিষ্ঠা।
ভোলাসহ বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশ নেওয়ার আহ্বান।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে 'এক চীন নীতি' (One China Policy)-র প্রতি ধারাবাহিক সমর্থন বজায় রাখা।
ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (IPU) নির্বাহী পরিষদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরাত আদিব চৌধুরীর প্রার্থিতায় চীনের সমর্থন কামনা।
একই দিনে চীনা রাষ্ট্রদূত জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি-র সঙ্গেও তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ডেপুটি স্পিকার তাঁর সাম্প্রতিক চীন সফরের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে চীনের আতিথেয়তা ও সহযোগিতার প্রশংসা করেন। উভয় বৈঠকেই চীন দূতাবাস ও বাংলাদেশ সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দৈনিক দুর্বার