ব্রাজিলের সাধারণ নির্বাচনে মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন দেশটির রাজনীতি ও ভূ-রাজনীতির দুই বিপরীত মেরুর শীর্ষ প্রতিনিধি—বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর বড় ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো।
অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের দায়ে ২৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ও কারাবন্দি বাবা জইর বলসোনারোর অনুপস্থিতিতে ডানপন্থি ‘লিবারেল পার্টি’র হয়ে নির্বাচনে লড়ছেন ৪৫ বছর বয়সী সিনেটর ফ্লাভিও। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি অনুসরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ‘ট্রাম্পের বিশ্বস্ত মিত্র’ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরছেন এবং অপরাধ দমনে কঠোর আইনের পক্ষে সওয়াল করছেন।
অন্যদিকে ৮০ বছর বয়সী প্রবীণ নেতা লুলা দা সিলভা নিজেকে ‘গণতন্ত্র ও পরিবেশের রক্ষক’ হিসেবে উপস্থাপন করছেন। তিনি 'ব্রিকস' জোটকে শক্তিশালী করা এবং ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ নীতিতে মার্কিন বা বিদেশি প্রভাব মোকাবিলার অঙ্গীকার করেছেন।
মূল ইস্যু ও ব্যাংকিং কেলেঙ্কারী: নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে কারাবন্দি ব্যাংকার ড্যানিয়েল ভোরকারোর একটি আর্থিক কেলেঙ্কারির অডিও ফাঁস হওয়ায় উভয় পক্ষই অস্বস্তিতে পড়েছে:
ফ্লাভিও বলসোনারোর বিরুদ্ধে বাবার বায়োপিক তৈরির জন্য বিপুল অঙ্কের বিতর্কিত অর্থ চাওয়ার অভিযোগে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে।
অপরপক্ষে, ওই ব্যাংকারের সঙ্গে জইর বলসোনারোর সাজা প্রদানকারী প্রধান বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরায়েসের যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় পুরো বিচারব্যবস্থা ও সরকারের দিকে আঙুল তুলছে বলসোনারো শিবির।
জরিপ অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীরই এককভাবে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়ার নিশ্চিত তথ্য নেই, যার ফলে প্রথম দফার ভোটের ওপর ভিত্তি করে আগামী ২৫ অক্টোবর চূড়ান্ত দ্বিতীয় দফার (রান-অফ) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
দৈনিক দুর্বার