ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বড় ধরনের অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্যাপক বিক্ষোভ ও পদযাত্রা করেছেন হাজারো মানুষ।
বিরোধীদের পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্বাধীন ‘কোকরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র আন্দোলনকারীরা কঠোর নিরাপত্তা ও পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে এই বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন। সুপ্রিম কোর্টের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় বিক্ষোভকারীরা নানা স্লোগান দেন এবং প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রধান দিকসমূহ:
ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক: সমালোচকদের আশঙ্কা, বড় পরিসরে পরিচালিত এই ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অনুকূলে কাজ করবে। যদিও নির্বাচন কমিশন এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তা: বিক্ষোভ ঠেকাতে কেন্দ্রীয় দিল্লিতে হাজার হাজার নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়। বন্ধ রাখা হয় বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশন এবং বসানো হয় ভারী ধাতব ব্যারিকেড।
বিরোধী নেতাদের নিন্দা: কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, নরেন্দ্র মোদি সরকার নির্বাচন কমিশনারকে রক্ষা করতে পুরো দিল্লিকে একটি দুর্গে পরিণত করেছে এবং গণতান্ত্রকি কণ্ঠস্বর দমনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
গণগ্রেপ্তার ও সংঘাত: এর আগে সপ্তাহান্তে চলা বিক্ষোভে হাজারো বিক্ষোভকারী ও আন্দোলনকারীকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়। সিপিআই(এম) সংসদ সদস্য জন ব্রিট্টাস পুলিশি হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
অধিকারকর্মী ও বিরোধী দলগুলোর মতে, মোদি সরকারের গত এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা শাসনামলে সংবাদমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর চাপ বৃদ্ধির মাধ্যমে গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে—যদিও সরকার এসব অভিযোগ বরাবরই নাকচ করে আসছে।
দৈনিক দুর্বার