পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের পাশে সোহাগ নামে এক ভাঙরি ব্যবসায়ীকে মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।
বুধবার (৯ জুলাই) বিকেলে হাসপাতালের তিন নম্বর গেটের সামনে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে মিটফোর্ড হাসপাতালের তিন নম্বর গেট সংলগ্ন রাস্তা থেকে সোহাগের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তার মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
সোহাগ কেরানীগঞ্জ এলাকায় থাকতেন এবং তিনি পেশায় ভাঙরি ব্যবসায়ী।
ঘটনার বিস্তারিত জানার জন্য পুলিশ কাজ করছে। এই ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানাস ওসি।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মানুষের মনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, এই নৃশংসতা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে।
শুক্রবার (১১ জুলাই) বিকেলে লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) জসীম উদ্দীন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মইন ও তারেক নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছেন।
কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত কী কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত বা রাজনৈতিক দলের লোকজন কোনো কারণে তাকে হত্যা করেছে- এমন প্রশ্নের জবাবে জসীম উদ্দীন জানান, সবকিছু তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গ্রেপ্তাররা সরাসরি এই হত্যায় অংশ নিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে পুরো ঘটনায় ৮ থেকে ১০ জন জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় নিহতের বোন বাদী হয়ে লালবাগ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলায় আটক দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর পর আদালত তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পাথরটি কোথায় থেকে পাওয়া গেল— এমন প্রশ্নের জবাবে জসীম উদ্দীন জানান, ঘটনাস্থলের পাশে একটি নির্মাণকাজ চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেখান থেকেই ঢালাইযুক্ত পাথর এনে সোহাগকে হত্যা করা হয়। পাথরটি জব্দ করা হয়েছে।
এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সোহাগকে যেভাবে নির্মাণাধীন ভবনের ঢালাই পাথর দিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তা সত্যিই হৃদয়বিদারক। ভিডিওটি যারা দেখেছেন, তারা সবাই হতবাক। এভাবে মাথায় ও বুকে একাধিকবার পাথর দিয়ে আঘাত করে একজন মানুষকে হত্যা করা—এই নৃশংসতা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে।