ঢাকা | বঙ্গাব্দ

আগামীর সম্ভাবনাময়ী নারী ফুটবলার শিফা আক্তার সানি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 1, 2025 ইং
নারী ফুটবলার শিফা  আক্তার সানি। ছবির ক্যাপশন: নারী ফুটবলার শিফা আক্তার সানি।
ad728
শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি
গ্রাম জগন্নাথপুর, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা, হবিগঞ্জ জেলার এক মধ্যবিত্ত পরিবারের স্বপ্নবাজ কন্যা শিফা আক্তার সানি। ছোটবেলা থেকেই তার চোখে একটাই স্বপ্ন—একদিন লাল-সবুজের জার্সি গায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে, গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে বুক চিতিয়ে রুখে দেবে প্রতিপক্ষের আক্রমণ।

শিফার ফুটবল-প্রীতির শুরুটা ছিল বেশ সাধারণ। টেলিভিশন ও ফোনে মেয়েদের খেলা দেখে কিংবা স্থানীয় টুর্নামেন্টে মাঠে গিয়ে খেলা উপভোগ করে ধীরে ধীরে তার মনে জন্ম নেয় ফুটবলার হওয়ার ইচ্ছা। স্বপ্নটা হয়তো অনেকের কাছে অবাস্তব মনে হতে পারতো, কিন্তু ভাগ্যক্রমে শিফা পেয়েছেন তার সবচেয়ে বড় শক্তি—নিজের বাবা-মায়ের নিরন্তর সাপোর্ট। তারা বলেছিলেন, “মেয়ের স্বপ্নই আমাদের স্বপ্ন। মেয়ের পথচলায় আমরা সঙ্গী হবো সবসময়।”

পরিবারের এই সাহসী সমর্থনই শিফাকে এগিয়ে নিয়ে যায় জীবনের এক নতুন অধ্যায়ে। সিলেটের নামকরা সিলেট জুম্মান লুইস স্পোর্টস একাডেমির হাত ধরে শুরু হয় তার আনুষ্ঠানিক ফুটবলযাত্রা। দিন দিন তার খেলা শাণিত হতে থাকে। গোলপোস্টের নিচে তার ঝাঁপ, ক্ষিপ্রতা আর দৃঢ়তা দেখে অনেকে অবাক হতেন। দেশের সেরা গোলরক্ষক রুপনা চাকমাকে আদর্শ মেনে শিফা গড়ে তুলছেন নিজেকে।

খুব অল্প সময়েই শিফা হয়ে ওঠেন আলোচিত নাম। ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় দল পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ পান তিনি। দেশের সর্বোচ্চ আসর বাংলাদেশ উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগে ফরাশগঞ্জের জার্সি গায়ে খেলেছেন সিলেটের এই কিশোরী। প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি টুর্নামেন্টে তিনি অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছেন।

কিন্তু এখানেই থেমে নেই শিফার স্বপ্ন। তার লক্ষ্য আরও উঁচুতে—একদিন জাতীয় দলে খেলা, দেশের জন্য প্রাণ উজাড় করে লড়া। একইসাথে শিফা চান বিদেশের নামকরা ক্লাবে খেলার সুযোগ, যেন বাংলাদেশের নামও ছড়িয়ে পড়ে বৈশ্বিক ফুটবলের মঞ্চে। তার বিশ্বাস, পরিশ্রম করলে অসম্ভব বলে কিছু নেই।

তার এই সাফল্যে আনন্দে ভরে গেছে পরিবার ও এলাকাবাসী। তারা বলেন, “শিফা খুব ভালো মেয়ে, ভেতরে ভেতরে অনেক প্রতিভা আছে। যদি সঠিক গাইডলাইন আর সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, তবে একদিন সে দেশ ও জেলার নাম উজ্জ্বল করবে বিশ্ব দরবারে।”

শুধু তাই নয়, শিফার আরেকটি স্বপ্ন হলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হয়ে খেলা। ইতিমধ্যেই তিনি ইউনিসেফের ক্যাম্পে এক সপ্তাহ এবং সিলেট শাখায় তিন মাসের দীর্ঘ ক্যাম্প সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া স্থানীয় টুর্নামেন্টেও নিয়মিত খেলছেন এবং বারবার প্রমাণ করছেন নিজের যোগ্যতা।

কিন্তু শিফার একটাই চাওয়া—একটা সুযোগ। তিনি বিশ্বাস করেন, “নিজেকে প্রমাণের জন্য একটিই সুযোগ যথেষ্ট। আমি আমার সর্বোচ্চটা দিতে চাই, দেশকে গর্বিত করতে চাই। লক্ষ্যকে সামনে রেখে নিয়মিত কঠোর পরিশ্রম করছি। আমি জানি, পরিশ্রম কোনোদিন বিফলে যায় না।”

একজন স্বপ্নবাজ কিশোরী থেকে দেশের সম্ভাবনাময়ী নারী ফুটবলারের যাত্রা—শিফার এই গল্প শুধুমাত্র খেলার গল্প নয়, এটি সাহস, দৃঢ়তা আর স্বপ্নের গল্প। যে গল্প শুনলে চোখ ভিজে আসে, বুক ভরে ওঠে গর্বে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : দৈনিক দুর্বার

কমেন্ট বক্স