ঢাকা | বঙ্গাব্দ

গেটপাস জটিলতা: বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ আমদানি বাণিজ্য বন্ধ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 26, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন:
ad728

বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নতুন নির্দেশনার প্রতিবাদে এবং ভারতীয় ট্রাকে অবৈধ পণ্যের দায়ভার নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে গেটপাস ইস্যু করা বন্ধ করে দিয়েছেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা। এর ফলে গত শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি বাণিজ্য সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম এ পরিস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি জানান, এতদিন ধরে কোনো অবৈধ মালামালের ব্যক্তিগত দায়ভার না নিয়ে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিরা ভারতীয় আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাকের গেটপাস (কারপাস) ইস্যু করে আসছিলেন। তবে গত শনিবার কাস্টমস কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করে একটি নতুন নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনায় বলা হয়, স্ব-স্ব সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের কর্মচারীদের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে ভারতীয় আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাক গ্রহণ করতে হবে। যদি ওই ট্রাকে কোনো অবৈধ মালামাল পাওয়া যায়, তবে তার সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিকে নিতে হবে এবং এ সংক্রান্ত কোনো দায়ভার কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নেবে না।

সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, এই ধরনের অন্যায্য ও ঝুঁকিপূর্ণ শর্ত মেনে তারা কোনো গেটপাস ইস্যু করবেন না। এই অনড় অবস্থানের কারণেই বর্তমানে আমদানি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া

বেনাপোল আমদানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে মালামাল রফতানি করেন এবং তারাই ভালো জানেন পণ্যের ভেতরে কী রয়েছে। ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভাররা পথিমধ্যে কোনো অবৈধ মালামাল তুললে তার দায়ভার কোনো সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বা স্টাফরা নিতে পারে না। কাস্টমসের এ ধরনের অবাস্তব সিদ্ধান্তের কারণেই বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি বাণিজ্য আজ বন্ধ রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রভাব

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন জানিয়েছেন, কারপাস জটিলতার কারণে শনিবার থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে আমদানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, রফতানি কার্যক্রম এবং চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।

আমদানি বাণিজ্য হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ ট্রাকই বাংলাদেশের শতভাগ রফতানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পের অতিপ্রয়োজনীয় কাঁচামাল বহন করছে, যা সময়মতো কারখানায় পৌঁছাতে না পারলে বড় ধরনের উৎপাদনের ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : Rayhan

কমেন্ট বক্স