বাংলাদেশে বৈদেশিক অর্থায়নের সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ইকোনমিক রিলেশনস ডিভিশনের (ERD) সাময়িক তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের বৈদেশিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি বিগত বছরের তুলনায় ৩৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, বিপরীতে বৈদেশিক ঋণের দেনা শোধ বা ঋণ পরিশোধের খরচ প্রায় ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
প্রতিশ্রুতি ও অর্থ ছাড়ের পতন
অর্থবছরের প্রাপ্ত তথ্যমতে, অর্থবছরে মোট বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি কমে দাঁড়িয়েছে ৫.২৪ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৮.৩২ বিলিয়ন ডলার। এই পতনের মূল কারণ ছিল প্রকল্প ঋণের প্রতিশ্রুতি হ্রাস পাওয়া, যা ৭.৯৪ বিলিয়ন থেকে কমে ৫.০১ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। এছাড়া অনুদান প্রতিশ্রুতিও কমে ২২৩.৭৮ মিলিয়ন ডলারে এসে ঠেকেছে। ঋণের অর্থ ছাড়ের পরিমাণও ৮.৫৭ বিলিয়ন থেকে কিছুটা কমে ৮.০৭ বিলিয়ন ডলার হয়েছে।
ঋণ পরিশোধের নজিরবিহীন চাপ
অর্থবছরে আসল ও সুদ মিলিয়ে বাংলাদেশকে প্রায় ৪.৪৯ বিলিয়ন ডলার শোধ করতে হয়েছে, যা বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছিল ৪.০৯ বিলিয়ন ডলার। দেশীয় মুদ্রায় এই ঋণ পরিশোধের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৪,৯৫৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে কেবল আসলের পরিমাণই ছিল ২.৯৫ বিলিয়ন ডলার এবং সুদের পরিমাণ ছিল ১.৫৪ বিলিয়ন ডলার। বিগত এক দশকে বড় বড় মেগা প্রকল্পে নেওয়া ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার কারণেই মূলত এখন এই দেনা শোধের বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে দেশকে।
দৈনিক দুর্বার