সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে কো-পাইলট কর্তৃক ক্যাপ্টেনের ওপর হামলার ঘটনার পর এভিয়েশন জগতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক ও রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। দুবাই থেকে উড্ডয়নের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর ককপিটে ক্র্যাশ অ্যাক্স (কুঠার) দিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের ওপর হামলা চালান ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি। গুরুতর আহত অবস্থায় ক্যাপ্টেন দরজা খুললে এক যাত্রী কো-পাইলটকে কাবু করেন এবং পরবর্তীতে বিমানটি সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করে।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার উদ্দেশ্য ও নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে ৫টি মূল প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছে:
১. চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির পরও পদে বহাল কীভাবে? মতাদর্শগত উদ্বেগের কারণে ওমানে পাইলট হিসেবে নিষিদ্ধ হওয়া এবং প্রশিক্ষণ বাতিল হওয়া আল-হাম্মামি কীভাবে ফ্লাইদুবাইয়ের ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে কো-পাইলট হিসেবে নিয়োগ পেলেন?
২. একজন কলমিস্ত্রি (প্লাম্বার) কীভাবে বিমানের নিয়ন্ত্রণ সামলালেন? ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, ইয়ানিভ হায়ুন নামের এক প্লাম্বার 'এয়ার ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন' টিভি সিরিজ দেখে বিমানটি সামলে ধরেছিলেন। বিষয়টি এভিয়েশন মহলে প্রশ্ন তুলেছে।
৩. ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমেও কোনো হতাহত নেই কীভাবে? মাত্র দুই মিনিটে বিমানে ১৭ হাজার ফুট নিচে নেমে আসায় ভেতরে তীব্র ঋণাাত্মক জি-ফোর্স তৈরি হলেও যাত্রীদের বড় ধরনের কোনো শারীরিক ক্ষতি হয়নি।
৪. কূটনৈতিক সম্পর্কহীন দেশের নাগরিক কীভাবে ইসরায়েলগামী বিমানে? ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও পরিবহন বিভাগের নজরদারি এড়িয়ে কীভাবে ওমানের নাগরিক এই ফ্লাইটের ক্রু হিসেবে যুক্ত হতে পারলেন, তা নিয়ে নেতানিয়াহু নিজেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার 'ফাঁক'-এর কথা স্বীকার করেছেন।
৫. হামলার আগে নামাজ পড়ার ঘটনা: হামলার কয়েক মিনিট আগে আল-হাম্মামির নামাজ পড়ার বিষয়টি হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে অতিরিক্ত সন্দেহ তৈরি করেছে।
এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের আরএমআইটি ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষার্থী আল-হাম্মামির সঙ্গে কোনো সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা যৌথভাবে তদন্ত করছে অস্ট্রেলিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরাপত্তা বাহিনী। ইউএই প্রসিকিউশন ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছে।
দৈনিক দুর্বার